আপনার রুম কি সাদামাটা? রঙের বড় অভাব? সেই সাথে আপনি কি একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অথবা স্ট্রিমার? ভিডিও করলে বা স্ট্রিম করলে মনে হয় ভুলে স্যাচুরেশন কমে গেছে? দেয়ালের রঙ আর আপনার মনের রঙ একই রকম ফ্যাঁকাসে?
আপনার জন্য দরকার আরজিবি এলইডি! ঠিক যেমন এখন আমার পিছের দেয়ালে আছে তেমনি একটা আরজিবি এলইডি লাইট।
যেটা আমি চাইলে আমার ফোন থেকে কালার চেঞ্জ করতে পারবো কিংবা ইফেক্ট দিতে পারবো। আর এটার ব্যাটারি একবার চার্জ করলে প্রায় ১২ ঘন্টা একটানা চলতে পারবে।
আর এটাকে চাইলে আমি মাইক্রো ইউএসবি কিংবা টাইপ সি দুটো দিয়েই চার্জ করতে পারবো এবং টাইপ সি দিয়ে চার্জ করতে করতে লাইট চালাতে পারবো। এর আগে আমি দারাজ থেকে ৪৯৯ অফারে প্রচুর গ্যাজেট কিনেছি মাঝে। তার মধ্যে২৫০ টাকায় পেয়ে গিয়েছিলাম এই ব্লুটুথ কন্ট্রোলার সহ এলইডি লাইট স্ট্রিপ।
ব্লুটুথ এলইডি কন্ট্রোলার |
টাতে ৫০৫০ এলইডি ইউজ করা হয়েছে, খুব কম পরিমান এলইডি দেয়া হয়েছে, মানে স্ট্রিপ লম্বায় বেশ কম। একটা ব্লুটুথ কন্ট্রোলারও আছে, এটা আবার ইউএসবি পাওয়ার কিংবা ৫ ভোল্টে চলে। কিন্তু এটার লেংথ এতো কম ছিলো যে, আমি আসলে প্র্যাক্টিক্যালি এটাকে কোথাও যে ইউজ করবো, সে সুযোগও ছিলো না।
৫০৫০ এলইডি |
এই কাজটা করার জন্য দরকার এলইডি স্ট্রিপটাকে ছোট ছোট করে কেটে ফেলা। এলইডি স্ট্রিপের মাঝে দাগ দেয়া থাকে যেখানে কাটা দরকার।
যেখানে কাটতে হবে এলইডি স্ট্রিপ |
আমি সেখানেই কাটবো এই স্ট্রিপটাকে। এবার এই স্ট্রিপগুলোকে একটা ফোমবোর্ডের উপরে লাগিয়ে ফেলবো একটার পর একটা।
স্ট্রিপের পেছনে থাকা ডাবল সাইড টেপ দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে বোর্ডে |
এই স্ট্রিপের পেছনে আঠা দেয়া আছে, সেটা ব্যাবহার করেই লাগিয়ে নেয়া যাবে। লাগানো শেষ করার পরে আমি সবগুলো সল্ডারপ্যাডে সল্ডার লাগিয়ে দেবো।
সবগুলো সল্ডার প্যাডে সল্ডার দিয়ে টিনিং করে নেবো |
তারপরে আমি আলাদা করে কাটা এলইডি স্ট্রিপগুলোতে প্যারালাল করে কানেকশন দেবো। প্রথমে আমি এভাবে কানেকশন দিয়েছিলাম। পুরোনো ইথারনেটের ক্যাবল থেকে তার বের করে সেগুলো দিয়ে কানেকশন দিয়েছিলাম।
আমি আলাদা করে কাটা এলইডি স্ট্রিপগুলোতে প্যারালাল করে কানেকশন দেবো |
তারপরে খেয়াল করলাম যে পরের গুলো আমি এভাবে লাগাতে পারবো না কারন আমি এলইডি স্ট্রিপগুলোকে ঠিক করে লাগাই নাই। তাছাড়া সময়ও লাগছিলো প্রচুর। তাই আমাকে নতুন একটা উপায় বের করা লাগলো। আমার কাছে সলিনয়েডের কিছু এনামেল কোটেড তার পরে আছে, যেটাকে সবাই কয়েলের তার বলে চেনে। সেগুলো দিয়েই সল্ডার করে দিলাম সবগুলো এলইডি স্ট্রিপ।
প্যারালাল কানেকশন করে সল্ডার করার পরে বোর্ডের অবস্থা |
এনামেল কোটেড তার |
দুইরকম করে সল্ডার করায় বেশ হিবিজিবি লাগতেছে পুরো জিনিসটা, কিন্তু কাজ করলেই হবে আমার, তাই আমি আর এটা নিয়ে মাথা ঘামালাম না। এবার একটু চেক করে দেখবো সব সল্ডার জয়েন্ট ঠিক আছে নাকি এবং লুজ কানেকশন আছে নাকি, থাকলে সেগুলো সল্ডার করে ঠিক করে ফেলবো।
দুইরকম করে সল্ডার করায় বেশ হিবিজিবি লাগতেছে পুরো জিনিসটা |
রমজানের সময়, তাই আজকের মতো এইটুকু করে চলে গেলাম পরের দিন।
এবার আমি এটার বক্স আর আনুসাঙ্গিক ইলেক্ট্রনিক্সের উপরে কাজ করবো।
এবার বক্সের বাকি কাজ শুরু করার আগে আমাদের বাকি ইলেক্ট্রনিক্সের সাথে একটু পরিচিত হয়ে নিই। যাতে করে আমরা বুঝতে পারি আমাদের ঠিক কোথায় কতটূকু বোর্ড কাটা লাগবে কিংবা ফুটো করা লাগবে।
যেসব ইলেক্ট্রনিক্স আমাদের বক্সের ভেতরে রাখতে হতে পারে সেগুলো হলো আমাদের লাইটের ব্লুটুথ কন্ট্রোলারটা, একটা ব্যাটারি, যেটা আমি রাফির পুরানো পাওয়ার ব্যাঙ্ক থেকে মেরে দিসি।
যেসব কম্পোনেন্ট ব্যাবহার করার প্রয়োজন হতে পারে |
যেসব ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্ট দরকার হতে পারে...
- Type - C TP4056 Battery Charger Module
- 3.7v Lithium Ion / Lithium Polymar Battery
- ৫টি LED বিভিন্ন রঙের (৪টি ব্যাটারি লেভেলের জন্য, ১টি পাওয়ার অন অফ বোঝার জন্য
- একটি IRF3205 মসফেট (n-channel mosfet)
- একটা 100k ওহম রিসিস্টর
- একটা PC817 অপ্টোকাপোলার
- Veroboard যাতে সল্ডারিং করতে পারেন
- Push Button
এবং একটা পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউল যেইটা একটু পরে আমি নিজেও ইউজ করবো না নস্ট হবার জন্য। অনেকে ভাবছেন বড় কোনো পাওয়ার সুইচ নেই কেনো, একটু পরেই বলছি।
ব্যাটারি লেভেল সহ পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউল (এইটাই প্রথমে নস্ট হইছে :p ) |
এলইডিগুলো আমরা ব্যাবহার করবো মুলত ব্যাটারি লেভেল ইণ্ডিকেটর করে। যেটা আমরা পাওয়ার ব্যাঙ্কে পাচ্ছি। সেজন্য একটা এলইডি বোর্ড বানিয়ে নেবো ভেরোবোর্ড দিয়ে।
এবং আমি একটু পরে আবিস্কার করলাম এই হলুদ এলইডিগুলা প্রচুর কারেন্ট চায়, যেটা আমাদের পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউল দিতেও পারে না। এবং এই পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউলটাও নস্ট।
এই সেই কালপ্রিট হলুদ এলইডিগুলা, যেগুলা কারেন্ট বেশি খায় |
তাই আবার সব হলুদ এলইডি বদলে করে নিলাম একদম সাদা এলইডি। আর নতুন একটা পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউল খুজে বের করলাম যেটাতে ব্যাটারি লেভেল ইন্ডিকেটর আলে
লাগিয়ে নিলাম সাদা রঙের এলইডি |
আমি যেই পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউলটা খুজে বের করেছি এটায় একটা সুইচ থাকে। এই সুইচ চাপলে ব্যাটারি লেভেল দেখা যায়। তো এই সুইচটা বক্সের বাহিরে থেকে এক্সেস পাওয়ার জণ্য আমি বড় একটা সুইচ পাওয়ার ব্যাঙ্কের সুইচের সাথে প্যারালাল করে লাগিয়ে নেবো। সহজে বক্সের সাথে লাগানোর জন্য বড় সুইচটা একটা বোর্ডের উপরে সল্ডার করে দেবো।
সহজে বক্সের সাথে লাগানোর জন্য বড় সুইচটা একটা বোর্ডের উপরে সল্ডার করে দেবো |
এবং এই সুইচটা চেপে ধরে রাখলে একটা ছোট এলইডি টর্চ হিসেবে জ্বলে ঊঠে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বোর্ডের উপরে।এই চাপ দিয়ে ধরে রাখলে যে একটা এলইডি জ্বলে উঠে, তখন আমার মনে হল যে এইটাকে দিয়ে তো পুরো এলইডি স্ট্রিপের সুইচের কাজ করা যায়। চাপ দিয়ে ধরে রাখলে স্ট্রিপ অন হবে, আবার ধরে রাখলে বন্ধ হবে। নাইস হবে না?
এখন ডিরেক্ট এলইডি স্ট্রিপের কানেকশন দিলে তো হবে না, তাই এখানে আমি একটা মসফেট ব্যাবহার করবো যাতে ছোট এলইডির কারেন্ট থেকে আমরা একটা মসফেটকে সুইচ করে বেশি কারেন্টের এলইডি স্ট্রিপ চালু করে দিতে পারি।
মসফেট (MOSFET) |
তো মস্ফেট কিভাবে কাজ করে?
মস্ফেট নিয়ে বেশি টেকনিক্যাল কথা বললে আপনারা বোর খাবেন। শর্টকাটে বলি, মস্ফেট হলো একরকম ট্রান্সজিস্টর, আর ট্রান্সজিস্টর হলো একরকম সুইচ যেটা নানারকম ইলেক্ট্রনিক সার্কিটে ইউজ করা হয়, এমনকি আমাদের কম্পিউটারের সিপিইউতেও কয়েকশ বিলিয়ন ট্রাঞ্জিস্টর আছে।
আর MOSFET দুই রকম, পি চ্যানেল আর এন চ্যানেল। আমরা এন চ্যানেল নিয়ে কাজ করবো। মস্ফেট দিয়ে প্রচুর ডিসি কারেন্ট যেতে পারে। ২০-৩০ অ্যাম্পিয়ার তো কমই বললাম। প্রকারভেদে নানা রকম মস্ফেট আছে বাজারে। আমরা ব্যাবহার করবো এন চ্যানেল মস্ফেট।
মসফেটের থাকে ৩টা পিন। গেইট, ড্রেইন আর সোর্স। গেইট পিন দিয়ে ড্রেইন আর সোর্সের মাঝের কন্ডাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রন করা হয়। মানে আপনি কতটুকু খুলবেন বা বন্ধ করবেন।
এন চ্যানেল মস্ফেটের গেইট পিনে আপনি যদি পজিটিভ ভোল্টেজ দেন, তো সেটা কিন্তু মসফেটকে ওপেন করে দিবে, মানে গেট খুলে দিবে, সেই ভোল্টেজ যত অল্পই হউক। এবং গেইটে তারপর ভোল্টেজ বন্ধ করে দিলেও এই গেট খোলাই থাকে। কারন হলো গেইটে যেই চার্জটা আপনি দিয়েছেন, এইটা কিন্ত মসফেটের ড্রেইন পর্যন্ত যায় না। এই চার্জটাই মসফেটের গেট খোলা রাখে। আর গেইট খোলা রাখলে মসফেটের সোর্স আর ড্রেন দিয়ে কারেন্ট প্রবাহ চলতেই থাকবে। এইটাই হলো মসফেটের বৈশিষ্ট।
এটার এফিসিয়েন্সি অনেক ভালো। কিন্তু যেই কিনা আপনি গেট পিনটা গ্রাউণ্ডে বা নেগেটিভ পিনে দিবেন, চার্জ গ্রাউন্ডে চলে যাবে, আর গেট বন্ধ হয়ে যাবে।
এই এন চ্যানেল মস্ফেটে সুইচ ট্রিগার করতে আমরা ব্যাবহার করবো একটা অপ্টো কাপোলার। অপ্টো কাপোলার অনেকটা একটা লাইট আরেকটা লাইট সেন্সর একটা ছোট্ট আইসির ভেতর।
PC817 Optocoupler |
অপ্টোকাপোলারে দুই পাশ সম্পুর্ন আলাদা থাকে, অনেকটা রিলে সুইচের মতো, একপাশ থেকে আরেক পাশে সুইচ করা যায়। কিন্তু এখানে সুইচিংটা হয় এলইডি বা লাইটের মাধ্যমে। এটা আমরা দেখতে পারি না কারন এটা এই আইসির ভেতরে হয়ে থাকে। অপটো কাপোলার ব্যাবহার করার ফলে মসফেটের সার্কিট এবং আমাদের পাওয়ার ব্যাঙ্কের ভেতরের সার্কিট আলাদা থাকবে, উলটো পালটা ভোল্টেজ গিয়ে কোনো কিছু নস্ট করে দিতে পারবে না।
অপ্টোকাপোলার অনেকটা এভাবে কাজ করে |
এখন অপ্টোকাপোলার যদি মসফেটকে একবার ট্রিগার করে, আর তারপরে যদি গেট অন হয়েই থাকে, তাহলে তো আর লাভ নেই!
তাই আমরা গেইট পিনের সাথে একটা তুলনামূলক বড় মানের রিসিস্টর, যেটার মান আমি ঠিক করেছি ১০০কে, গ্রাউণ্ডের সাথে লাগিয়ে রাখবো।
এটাকে বলে পুলডাউন রিসিস্টর |
সুইচ সার্কিটটা একটা ভেরোবোর্ডে সল্ডার করে লাগিয়ে দেবো |
যাহোক, মস্ফেটের টেস্ট করা যেহেতু হয়ে গেলো, আমি মস্ফেটের সুইচ সার্কিটটা একটা ভেরোবোর্ডে সল্ডার করে লাগিয়ে দেবো।
এবার বক্সের ভেতরে ইলেক্ট্রনিক্সগুলো হটগ্লু দিয়ে বসিয়ে দেবো। প্রথমে ব্যাটারিটা বসাবো। তারপর অন্যান্য কম্পোনেন্ট বসাতে গিয়ে খেয়াল করলাম যে, পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউলের ইউএসবি পোর্টে জ্যাক ঢুকিয়ে রাখায় বেশি জায়গা নস্ট হচ্ছে। তাই আমি ইউএসবি জ্যাক বাদ দিয়ে তার সরাসরি সল্ডার করে দিলাম।
আমি ইউএসবি জ্যাক বাদ দিয়ে তার সরাসরি সল্ডার করে দিলাম |
এবার ছিদ্র করা শুরু করে দেবো, প্রথমে এলইডি লাইটগুলোর জন্য। প্রপারলি ছিদ্র করার জন্য চাইলে এলইডি লাইটগুলোর মাথায় একটু পেন্সিলের গ্রাফাইটের গুড়া মাখিয়ে নিয়ে সেটা দিয়ে চিহ্ন দিয়ে নিয়ে পারেন কোথায় ফুটো করতে হবে, তাহলে মাপ ঠিক হবে। এছাড়া আপনারা চাইলে এলইডিগুলো সরাসরি সাইডবোর্ডেই বসিয়ে দিতে পারেন আমার মতো ভেরোবোর্ডে সল্ডার না করে। এবার বসাবো পুশ সুইচটা। এজন্যে একই সাইজের আরেকটা পুশ সুইচ দিয়ে মাপ নিয়ে ছিদ্র করে নেবো। তারপরে সুইচটা বসিয়ে দেবো।
একই সাইজের আরেকটা পুশ সুইচ দিয়ে মাপ নিয়ে ছিদ্র করে নেবো |
এবার পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউলটা সেট করে দেবো, তারপরে পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউলের মাইক্রো ইউএসবি পোর্টটা বাহিরের দিকে বের করে দেবো। সেই সাথে আরেকটা এলইডি আমি পাওয়ার ব্যাঙ্কের যে টর্চ এলইডিটা ছিলো, সেটার সাথে প্যারালালি লাগিয়ে দেবো, তাতে করে যখন বাটন চেপে রাখার পরে এলইডি স্ট্রিপ চালু হবে, তখন একটা এলইডি ইন্ডিকেটরও দেখা যাবে।
আমি ভুলে গিয়েছিলাম ইন্ডিকেটর এলইডির সাথে একটা রিসিস্টর দিতে। কারন আগে যে সাদা এলইডি ছিলো এখানে টর্চ হিসাবে, সেটার ভোল্টেজ একটু বেশি লাগতো। এখন আমি যেই কমলা এলইডি ব্যাবহার করছি এটার ভোল্টেজ একটু কম দরকার হয়, নাহলে এলইডি গরম হয়ে যাবে। তাই একটা কারেন্ট লিমিটিং রিসিস্টর বসিয়ে দিয়েছি যেটা ২২০ ওহমের সমমানের।
মনে হতে পারে আমাদের প্রোজেক্টের কাজ শেষ।
কিন্তু এখনো এটাতে একটা সমস্যা আছে।
পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউল বানানো হয় ফোন চার্জ করার জন্য। আমরা যখন লো ব্রাইটনেসে এলইডি জ্বালাতে যাবো, তখন এলইডি কিন্তু কারেন্ট কম টানবে। তখন লো কারেন্ট দেখে মডিউল ভাবে যে যেই মোবাইল ফোনটা চার্জ হচ্ছিলো, সেটা চার্জ হয়ে গেছে, তাই কারেন্ট কম টানছে। এর জণ্য এটা অটোকাট করে আউটপুট বন্ধ করে দেয় আর পাওয়ার ব্যাঙ্ক স্লিপ মোডে চলে যায় যাতে করে অনেকদিন চার্জ থাকে ব্যাটারিতে। সাধারনত ৫০ কিংবা ১০০ মিলি অ্যাম্প কারেন্টের মধ্যে আসলে এভাবে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে যায়। এটা সমাধান করে নেয়া যায়, চাইলে নাও করতে পারেন যদি কম কারেন্ট আপনার না দরকার হয়।
সমাধানটা হলো, আমাদের মেপে বের করতে হবে ঠিক কতক্ষন পর পর পাওয়ার ব্যাঙ্ক অটো কাট করে লো কারেন্টে। ধরি যে লো কারেন্ট পাওয়ার পর ১০ সেকেণ্ডের মধ্যে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ১০ সেকেন্ডের ঠিক আগে, ৮ সেকেন্ড পর পর একটা টাইমার সুইচ বানাতে হবে যেটা ১০০ মিলি অ্যাম্পের বেশি লোড দিয়ে পাওয়ার ব্যাঙ্ক মডিউলকে জাগিয়ে রাখবে, মানে ঘুমাতে দিবে না।
তো এর জন্য আমি একটা ৫৫৫ টাইমার আইসি দিয়ে একটা রিসিস্টরে ঠিক ৮ সেকেন্ড পর পর ১ সেকেন্ডের জন্য পাওয়ার দেবো। এমনটা করলেই আমাদের পাওয়ার ব্যাঙ্ক আর বন্ধ হবে না।
- NE555 Timer IC
- 1 Mega Ohm Potentiometer
- 10k Ohm Resistor
- BC557 Transistor
- 1k Resistor
- LED Yellow
- 22uF Capacitor
- 100 Ohm/ 40 Ohm / 10 Ohm Power Resistor
- Veroboard
আর আমাদের লাইট যখন আমরা ব্যাবহার করবো না, চাইলে যাতে আমরা আমাদের এই লাইটের ব্যাটারি অন্য কাজে ব্যাবহার করতে পারি, সেজন্য একটা ডিসি সকেট বের করে নেবো যাতে বাইরে থেকে এইটার ব্যাটারি ব্যাবহার করা যায়।
0 Comments